রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
জীবন্ত কিংবদন্তিতুল্য অভিনেত্রী ডলি জহুর। মাঝে কয়েক বছর সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেন। এখন তিনি দেশে ফিরেছেন। আর ফিরেই বেশ ব্যস্ততা শুরু হয়েছে শ্যুটিংয়ের। অভিনয় করছেন টেলিভিশনের ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকে। এনটিভিতে প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার প্রচার হচ্ছে তার অভিনীত নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘শহরবাস’। গত সপ্তাহে কাজ করেছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বায়োস্কোপের জন্য অনিমেষ আইচের পরিচালনায়। বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘শিল্প, সংস্কৃতির সঙ্গেই থাকতে চাই আজীবন। দর্শকের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। তাই তো এখনো কাজ করছি। যদিও আগের মতো অনেক বেশি কাজ করতে পারছি না। শরীর সায় দেয় না। অভিনয়ের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ও মনের জোরে নতুন ধারাবাহিক নাটকেও যুক্ত হয়েছি। পরিচালক আরিফ রেজা বললেন, “আপা, কাজটি আপনাকে করতেই হবে।” দেখলাম, গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রখ্যাত সাহিত্যিকের সাড়াজাগানো উপন্যাস শহরবাসের ইতিকথা অবলম্বনে। চিত্রনাট্য করেছেন মাসুম রেজা। আর এনটিভির মতো জনপ্রিয় চ্যানেলে প্রচার হবে। তাই আর না করতে পারিনি। এ ছাড়া কিছু খন্ড নাটক ও ওটিটির কাজ করছি টুকটাক।’
ওটিটি আমাদের দেশে একেবারেই নতুন। ডলি জহুর নতুন মাধ্যমটিকে কীভাবে দেখছেন? জানতে চাইলে তিনি যে উত্তর দিলেন, তাতে আপ্লুত না হয়ে পারা যায় না! তার কথায়, ‘আমি তো রীতিমতো ওটিটির প্রতি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা কী দারুণ সব কাজ করছে, শিল্পীরা নিজেদের কীভাবে নতুন নতুন আঙ্গিকে মেলে ধরছে, দেখে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এই যে আমার বয়সী একজন দর্শক একটার পর একটা ওটিটির কাজ দেখছি, আর তা শেষ না করলে উঠতে পারছি না। এই যে প্রাপ্তি, এটি যে কত বড় সফলতা, সেটা শুধু শিল্পীরাই বুঝবেন।’ যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনো চরকি বা হইচইয়ে কাজ করিনি। কিন্তু তাদের প্রায় সব কাজই দেখছি। অনেককে ফোন করে তাদের কাজের প্রশংসা করেছি। মনে হয়েছে, তাদের উসাহ দিলে আরও ভালো কাজ করবে। নির্মাতা সাওকী আর তানিম নূরকে আমি ফোন করেছি, তারা ভীষণ খুশি হয়েছে। আমি তাদের বলেছি, তোমরা যে ধরনের কাজ করছ, তাতে হয়তো আমার বয়সের চরিত্র সেভাবে থাকবে না, কাজও একসঙ্গে হয়তো কম হবে। কিন্তু তোমরা যে দারুণ কাজ করছ, সেটি অ্যাপ্রিশিয়েট করা আমার দায়িত্ব। গত পরশু দুই দিনের দুনিয়া দেখেই চঞ্চল চৌধুরীকে ফোন করে বললাম, “কিরে ড্রাইভার কেমন আছিস।” শুনেই সে বুঝে গেছে। বলল, “তোমার কাছে কেমন লেগেছে।” আমার ভালো লাগার কথা তাকে জানালাম। তারা তো প্রমাণিত শিল্পী। ওটিটি আসার পর মঞ্চের অনেক অভিনেতা উঠে আসছে। যাদের আগে চিনতাম না। কিন্তু এখন তাদের কাজ দেখে মুগ্ধ হচ্ছি।’
ডলি জহুর তার সুদীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে দারুণ অভিনয় দিয়ে কয়েক প্রজন্মের দর্শকের মন জয় করেছেন। পেয়েছেন দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার। ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড তিনি মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে জমা দিয়ে এসেছেন, তাতে সংরক্ষিত থাকে, পরের প্রজন্ম তাকে জানতে পারে। এই অভিনেত্রীকে এবার আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করতে যাচ্ছে স্টার প্লাস কমিউনিকেশন। আগামী ১৯ নভেম্বর পাঁচ তারকা হোটেলে বসবে সেই আসর। পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে ডলি জহুর বলেন, ‘অবশ্যই যেকোনো সম্মাননা পরম আনন্দের, ভালো লাগার। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার আমার দর্শকের ভালোবাসা। তারা যত দিন চাইবে কাজ করে যাব। আমার প্রতি তাদের আগ্রহ, উচ্ছ্বাসই সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করি। তাই পুরস্কারের মঞ্চে ট্রফি হাতে নেওয়ার মধ্যে তেমন চমক খুঁজে পাই না।’
তার মতো শিল্পী এখনো কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। এটি কি একটুও কষ্ট দেয় না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একদমই না। মনে হয়, একুশে পদক কিংবা স্বাধীনতা পদক পাওয়ার যোগ্যতা বা বয়স হয়তো আমার হয়নি। যখন সেটা হবে, সেটি হয়তো পেয়ে যাব। আমার চেয়ে অনেক গুণী ও যোগ্য শিল্পী আছেন, তারা আগে পাচ্ছেন হয়তো।’